![]() |
| হযরত মুসা (খ্রীষ্ট পূর্ব ত্রয়ােদশ শতাব্দী) |
প্রাচীন মিশরের রাজধানী ছিল পেন্টাটিউক । নীল নদের তীরে এই নগরে বাস করতেন মিশরের “ ফেরাউন " রামেসিস নগরের শেষ প্রান্তে ইহুদিদের বসতি । মিশরের “ ফেরাউন " ছিলেন ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন। একবার কয়েকজন জ্যোতিষী গণনা করে তাকে বলেছিলেন , ইহুদি পরিবারের মধ্যে এমন এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে যে ভবিষ্যতে মিশরের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে । জ্যোতিষীদের কথা শুনে ভীত হয়ে পড়লেন ফ্যারাও । তাই " ফেরাউন ” আদেশ দিলেন কোন ইহুদি পরিবারে পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলেই যেন হত্যা করা হয় । “ ফেরাউন " এর গুপ্তচররা চতুর্দিকে ঘুরে বেড়াত । যখনই কোন পরিবারে ছেলে সন্তান জন্মবার সংবাদ পেলে তখনই গিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করত । ইহুদি মহল্লায় বাস করতেন আসরাম আর জোশিবেদ নামে এক সদ্যবিবাহিত দম্পতি । যথাসময়ে জোশিবেদের একটি পুত্র সন্তান জনুগ্রহণ করল । সন্তান জন্মবার পরই স্বামী - স্ত্রীর মনে হল যেমন করেই হােক এই সন্তানকে রক্ষা করতেই হবে । কে বলতে পারে এই সন্তানই হয়ত ইহুদি জাতিকে সমস্ত নির্যাতন থেকে রক্ষা করবে একদিন । সকলের চোখের আড়ালে সম্পূর্ণ গােপনে শিশুসন্তানকে বড় করে তুলতে লাগলেন আসরাম আর জোশিবেদ । কিন্তু বেশিদিন এই সংবাদ গােপন রাখা গেল না । স্বামী - স্ত্রী বুঝতে পারলেন যে কোন মুহূর্তে “ ফেরাউন " -এর সৈনিকরা এসে তাদের সন্তানকে তুলে নিয়ে যাবে । আল্লাহর আর ভাগ্যের হাতে শিশুকে সঁপে দিয়ে দু’জন বেরিয়ে পড়লেন । নীল নদের তীরে এক নির্জন ঘাটে এসে শিশুকে শুইয়ে দিয়ে তারা বাড়ি ফিরে গেলেন । সেই নদীর ঘাটে প্রতিদিন গােসল করতে আসত “ ফেরাউনের কন্যা । ফুটফুটে সুন্দর একটা বাচ্চাকে একা পড়ে থাকতে দেখে তার মায়া হল । তাকে তুলে নিয়ে এল রাজপ্রাসাদে । তারপর সেই শিশু সন্তানকে নিজের সন্তানের মত স্নেহ - ভালবাসা দিয়ে মানুষ করে তুলতে লাগল । রাজকন্যা শিশুর নাম রাখল মুসা । এ বিষয়ে আরেকটি কাহিনী প্রচলিত । মুসার মা জোশিবেদ জানতেন প্রতিদিন “ ফেরাউন " , এর কন্যা সখীদের নিয়ে নদীতে স্নান করতে আসেন । একদিন ঘাটের কাছে পথের ধারে শিশু মুসাকে একটা ঝুড়িতে করে শুইয়ে রেখে দিলেন । নিজে গাছের আড়ালে লুকিয়ে রইলেন । কিছুক্ষণ পর রাজকুমারী সেই পথ দিয়ে স্নান করতে যাবার সময় দেখতে পেল মুসাকে । পথের পাশে ফুটফুটে একটা শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে তার মায়া হল । তাড়াতাড়ি মুসাকে কোলে তুলে নিল । জোশিবেদকেই মুসাকে ধাত্রী হিসাবে নিয়ােগ করে রাজকুমারী । নিজের পরিচয় গােপন করে রাজপ্রাসাদে মুসাকে দেখাশুনা করতে থাকে জোশিবেদ । মা ছাড়া মুসা কোন নারীর স্তন্যপান করেনি । ধীরে ধীরে কৈশাের থেকে যৌবনে পা দিলেন মুসা । ফ্যারাওয়ের অত্যাচার বেড়েই চলছিল । ইহুদির উপর এই অত্যাচার ভাল লাগত না মুসার । পুত্রের মনােভাব জানতে পেরে একদিন জোশিবেদ তার কাছে নিজের প্রকৃত পরিচয় দিলেন । তারপর থেকে মুসার অন্তরে শুরু হল নিদারুণ যন্ত্রণা । একদিন রাজপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন মুসা । এমন সময় তার চোখে পড়ল এক হতভাগ্য ইহুদিকে নির্মমভাবে প্রহার করছে তার মিশরীয় মনিব । এই দৃশ্য দেখে আর স্থির থাকতে পারলেন না মুসা । তিনি সেই ইহুদিকে উদ্ধার করবার জন্য নিজের হাতে তরবারী দিয়ে আঘাত করলেন মিশরীর মনিবকে । সেই আঘাতের মারা গেল মিশ য় লোকটি । ইহুদি লােকটি চারদিকে এ কথা প্রকাশ করে দিল গুপ্তচরর “ ফেরাউনকে গিয়ে সংবাদ দিতেই ক্রোধে ফেটে পড়লেন “ ফেরাউন ” । তিনি বুঝতে পারলেন রাজকন্যা মুসাকে মানুষ করলেও তার শরীরে বইছে ইহুদি রক্ত , তাই নিজের ধর্মের মানুষের উপর অত্যাচার হতে দেখে মিশরীয়কে হত্যা করেছে । একে যদি মুক্ত রাখা যায় তবে বিপদ অবশ্যম্ভাবী । তখনই সৈনিকদের ডেকে হুকুম দিলেন , যেখান থেকে পার মুসাকে বন্দী করে নিয়ে এস । “ ফেরাউন " -এর আদেশে কথা শুনে আর বিলম্ব করলেন না মুসা । তৎক্ষণাৎ নগর ত্যাগ করে বেরিয়ে পড়লেন । দীর্ঘ পথশ্রমে মুসা ক্লান্ত , তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিল । তার চোখে পড়ল দূরে একটি কুয়া । কুয়াের সামনে সাতটি মেয়ে তাদের ভেড়াকে পানি খাওয়াচ্ছিল । হঠাৎ একদল মেষপালক সেখানে এসে মেয়েদের কাছে থেকে জোর করে ভেড়াগুলিকে কেড়ে নিল । সাথে সাথে চিৎকার - চেচামেচি শুরু করে দিল সাত বােন । তাদের চিঙ্কার শুনে ছুটে এলেন মুসা তারপর মেষপালকদের কাছ থেকে সবকটা ভেড়া উদ্ধার করে মেয়েদের ফিরিয়ে দিলেন । মেয়েরা তাকে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়ি ফিরে গেল । সাত বােনের বাবার নাম ছিল রুয়েন । সাত বােন এসে মুসাকে ডেকে নিয়ে গেল তাদের বাড়িতে । তার পরনের মূল্যবান পােশাক , সমপূর্ণ ব্যবহার দেখে সকলেই মুগ্ধ হয়ে গেল । রুয়েন তার পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই কোন কথা গােপন করলেন না মুসা । অকপটে নিজের পরিচয় দিলেন । রুয়েন মুসার ব্যবহারের মুগ্ধ হয়ে তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিল । অল্প কিছুদিন পর এক মেয়ের সাথে তার বিয়ে দিলে রুয়েন । সেই যাযাবর গােষ্ঠীর সাথে থাকতে থাকতে অল্প দিনেই মেষ চরানাের কাজ শিখে নিলে মুসা । এক নতুন পরিবেশের সাথে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে মানিয়ে নিলেন । দেখতে দেখতে বেশ কয়েক বছর কেটে গেল । ওদিকে মিশরে ইহুদিদের অবস্থা ক্রমশই দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল । পশুপালকের জীবন যাপন করলেও স্বজাতির কথা ভুলতে পারেননি মুসা । মাঝে মাঝেই তার সমস্ত অন্তর ব্যথিত হয়ে উঠত । একদিন মেষের পাল নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে নির্জন পাহাড়ের প্রান্তে এসে পৌছলেন মুসা । সামনেই বেশ কিছু গাছপালা । হঠাৎ মুসা দেখলেন সেই গাছপালা পাহাড়ের মধ্যে থেকে এক আলােকছটা বেরিয়ে এল । এত তীব্র সেই আলাে , মনে হল দু'চোখ যেন ঝলসে যাচ্ছে । তবুও স্থিরদৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন সেই আলাের দিকে । তার মনে হল ঐ আলাে যেন তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে । এক সময় শুনতে পেলেন সেই আলাের মধ্যে থেকে এক অলৌকিক কণ্ঠস্বর ভেসে এল ; মুসা মুসা । চমকে উঠলেন মুসা । কেউ তারই নাম ধরে ডাকছে । তৎক্ষণাৎ সাড়া দিলেন , কে আপনি আমায় ডাকছেন ? সেই অলৌকিক কণ্ঠস্বর বলে উঠল , আমি তােমার ও তােমার পূর্বপুরুষদের একমাত্র ঈশ্বর । ঈশ্বর তার সাথে কথা বলছেন , এ যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না মুসা । ভীত হয়ে মাটিতে নতজানু হয়ে বসে পড়লেন । আমার কাছে আপনার কি প্রয়ােজন প্রভু। দৈবকণ্ঠস্বর বলল , তুমি আমার প্রতিনিধি হিসেবে মিশরে যাও । সেখানে ইহুদিরা অমানুষিক নির্যাতন ভােগ করছে । তুমি ইহুদিদের মুক্ত করে নতুন দেশে নিয়ে যাবে । মুসা বললেন , আমি কেমন করে তাদের মুক্তি দেব ? দৈববাণী বলল , আমি অদৃশ্যভাবে তােমাকে সাহায্য করব । তুমি ফ্যারাও - এর কাছে গিয়ে বলবে , আমিই তােমাকে প্রেরণ করেছি । সকলেই যেন তােমার আদেশ মেনে চলে । এমন সময় সেই মেঘপুঞ্জ থেকে অলৌকিক কণ্ঠস্বর ভেসে এল , মুসা , তুমি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে এস পাহাড়ের চূড়ায় উঠতেই মুসা শুনতে পেলেন আল্লাহর কণ্ঠস্বর , হে আমার প্রিয় ভক্ত , আমি তােমার মাধ্যমে সমস্ত ইহুদিদের দশটি নিয়ম জানাতে চাই । শুধু মাত্র আমাকে মানলেই চলবে না । এই দশটি নিয়ম তােমাদের সকলকে মেনে চলতে হবে । আল্লাহ তখন মুসার কানে কানে দশটি নির্দেশ দিলেন । মুসাকে আরাে কিছু নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ অদৃশ্য । কণ্ঠস্বর বাতাসে মিলিয়ে গেল । ঝরে গেল সেই আলােকরশ্মি মেঘপুঞ্জ । সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে এল ।।
দশটি নিম্নরূপ :
১৷আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ঈশ্বর নেই । তােমরা আল্লাহ ছাড়া অপর কোন দেবতার ইবাদত করবে না ।
২৷ আল্লাহকে শুধু মাত্র উপাস্য হিসাবে মান্য করলেই হবে না । তার প্রতিটি নির্দেশ আদেশ মেনে চলতে হবে ।
৩৷সপ্তাহের ছয় দিন কাজ করবে । সপ্তম দিন কোন কাজ করবে না । এই দিন স্যাবাথ বা পবিত্র বিশ্রামের দিন |
৪৷ পিতামাতাকে ভক্তি করবে , শ্রদ্ধা করবে , তাদের প্রতি পালনীয় কর্তব্য অবশ্যই পালন করবে । .
৫৷কোন মানুষকে হত্যা করে না ।
৬৷কোন নারী বা পুরুষ কখনােই ব্যভিচার করবে না । ৭৷অপরের দ্রব্য অপহরণ করবে না ।
৮৷মিথ্যা সাক্ষ্য নেবে না ।
৯৷অন্যর জিনিসের প্রতি কোন লােভ করবে না , বা যাতে অন্যের অধিকার আছে তা গ্রহণ করবেনা।
১০৷পশু কোরবানী দিতে হবে ।
পাথর স্থাপন করা হল পাহাড়ের গায়ে । যাতে ইহুদিদের ভবিষ্যৎ বংশধররা জানতে পারে আল্লাহর আদেশের কথা । এইবার মুসা আল্লাহর ধ্যান করবার জন্য পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গেলেন । দীর্ঘ চল্লিশ দিন ধরে গভীর সাধনায় মগ্ন হয়ে রইলেন মুসা । এদিকে মুসা অনুপস্থিতিত সকলেই চিন্তিত হয়ে পড়ল । সকলে এসে ধরল মুসার ভাই হারুনকে সে ভুলে গেল টেন কম্যান্ডমেন্টস - এর নির্দেশ । সে একটি সােনার বাছুর তৈরি করে বলল , এই বাছুরটিকেই আল্লাহর প্রতীক বলে পূজা কর । তারপর একে বলি দিয়ে পূজা শেষ করব । সকলে বাছুর পূজার আনন্দে মেতে উঠল । ইহুদিদের এই মূর্তিপূজা দেখে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন আল্লাহ । তিনি মুসাকে বললেন , ওদের এই গর্হিত কাজের জন্য আমি সকলকে ধ্বংস করব । সৃষ্টি করব নতুন এক জাতি । মুসা বুঝতে পারলেন আল্লাহ ইহুদিদের অন্যায় আচরণে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছেন । তিনি নতজানু হয়ে বসে বললেন , হে প্রভু , তুমি এই অপরাধ মার্জনা কর । মুসার কথায় শান্ত হলেন আল্লাহ । তিনি তাঁর উপদেশ - নির্দেশ লেখা আরাে দুটি পাথর দিলেন । মুসা সেই পাথর দুটি নিয়ে পাহাড় থেকে নিচে নামতেই দেখতে পেলেন সােনার বাছুরে মূর্তিতে ঘিরে ইহুদিরা আনন্দ উৎসবে মেনে উঠেছে । ইহুদিদের এই অসংযমী ধর্মবিরুদ্ধ আচরণে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন মুসা । তাই তিনি ক্রদ্ধ স্বরে গর্জন করে উঠলেন , তােমরা এই নাচ ও পূজা উৎসব বন্ধ কর । ইহুদিরা কোনদিন মুসার এই ক্রদ্ধ মূর্তি দেখিনি । তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল । মুসা বললেন , তােমরা যারা আল্লাহর নির্দেশ মান্য করে আমার সঙ্গী হতে চাও তারা আমার ডানদিকে এসে দাঁড়াও । যারা আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করতে না চাও তারা সকলে বাঁ দিকে যাও । ইহুদিরা সকলেই মুসার ডান দিকে এসে দাঁড়াল । মুসা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন , তােমরা যে অন্যায় করেছ তার প্রায়শ্চিত করতে হবে । মুসা বললেন , প্রত্যেক পরিবারের একজন তরবারি নিয়ে এগিয়ে এস । সকলে তরবারি নিয়ে আসতেই মুসা বললেন , এই তরবারী দিয়ে তােমাদের যে কোন একজন ভাই , বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে হত্যা কর । এ আমার নির্দেশ নয় , আল্লাহর আদেশ ।। সকলেই নতমস্তকে সেই আদেশ মেনে নিল । মুসা আর ইহুদিদের সাথে একত্রে বাস করতেন না । তিনি আলাদা তাবুতে থাকতেন । দিনরাত আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হয়ে থাকতেন । মাঝে শুধু আল্লাহর নির্দেশগুলি প্রচার করতেন । দশটি অনুশাসন ছাড়াও এগুলি ছিল স্বতন্ত্র নির্দেশ
১৷বিদেশীদের স্বজাতির মানুষদের মতই ভালবাসবে । ২৷কেনাবেচার সময় ব্যবসায়ীরা যেন ওজনের কারচুপি না করে সঠিক দাম নেয় ।
৩৷অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক করা চলবে না ।
৪৷স্মৃতিপূজা , জাদুবিদ্যা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
আল্লাহর আদেশে সকলে প্যালেস্তাইনে যাত্রার জন্য প্রস্তুত হল । তিন দিন চলবার পর তারা এসে পড়ল । ক্যানান নগরের প্রান্তে । এখানেই শিবির স্থাপন করা হল । মুসা ইহুদিদের মধ্যে থেকে বারাে জন অভিজ্ঞ মানুষকে পাঠালেন প্যালেস্তাইনে । তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তর পরিদর্শন করে এসে জানাল প্যালেস্তাইনের দক্ষিণ দিকটাই সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল । মুসা বললেন , আমরা প্যালেস্তাইনের দক্ষিণেই বসতি স্থাপন করব , তােমরা সকলে এগিয়ে চল । প্যালেস্তাইনের সীমান্ত প্রদেশে তখন বাস করত আমালেকিত ও কানানিত নামে দু'টি উপজাতি । এই দুই উপজাতি বহুদিন ধরেই প্যালেস্তইনে বাস করছিল । দুই উপজাতির মানুষেরা এক সঙ্গে ইহুদিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল । আচমক এই আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ছিল না ইহুদিরা । তারা আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে গেল হর্মা নামে এক নির্জন প্রান্তরে । মুসা বুঝতে পারলেন প্যালেস্তাইনে প্রবেশ করতে গেলে অন্য পথ দিয়ে প্রবেশ করতে হবে । তারা এসে পড়লেন ক্যানানিত রাজ্যের প্রান্তে । অপরিচিত ইহুদিদের দেখেই ক্যানানিতে রাজা তাদের আক্রমণ করলেন । এইবার আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল ইহুদিরা । মুসার বুদ্ধি - কৌশলে তারা পরাজিত হল । অবশেষে তারা এসে পড়লেন জর্ডান নদীর তীরে । নদীর ওপারে মেয়রের রাজ্য । সেই রাজ্য পার হলেই প্যালেস্তাইন । জর্ডানের তীরে এক উচু পাহাড়ের উপর উঠলেই দেখা যায় প্যালেস্তাইনের সবুজ প্রান্তর । এদিকে মুসাও উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠেছিলেন প্যালেস্তাইনের মাটিতে পা দেবার জন্য । এমন সময় আল্লাহর দৈববাণী শুনতে পেলেন । হে আমার প্রিয় ভক্ত , তােমার পৃথিবী ছাড়বার সময় হয়েছে , তুমি প্রস্তুত হও । পরদিনই সমস্ত ইহুদিদের ডেকে আল্লাহর আদেশের কথা বললেন । সকলের সামনে সমস্ত দায়িত্বভার ত্যাগ করে জোশুয়ার উপর অর্পণ করলেন । সকলকে উপদেশ দিয়ে তিনি প্রার্থনায় বসলেন । বুঝতে পারলেন তার সময় শেষ হয়েছে । দীর্ঘ ১২০ বছর ধরে পৃথিবীর কত কিছুই তাে প্রত্যক্ষ করলেন । গত চল্লিশ বছর মেষপালক যেমন তার মেষের পালকে চালিয়ে নিয়ে বেড়ায , তিনি তেমনি সমগ্র ইহুদি জাতিকে মিশর থেকে নিয়ে এসেছেন প্যালেস্তাইনের প্রান্তরে । জীবনে কোনদিন সুখ ভােগ করেননি । বিলাসিতা করেননি । ধর্মের পথে সৎ সরল জীবন যাপন করেছেন । প্রতিমুহূর্তে নিপীড়িত ইহুদি জাতির প্রতি নিজের অন্তরের অকুণ্ঠ ভালবাসা প্রকাশ করেছেন । তাদের নানান বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন । এতদিনের তার সব কাজ শেষ হল ।

0 মন্তব্যসমূহ